অমুসলিমদের যে সকল জ্ঞান মানবসভ্যতার জন্য উপকারী এবং ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয় সেসকল জ্ঞান মুসলিমদের অর্জন করতে দোষ নেই। সাহাবীগণ এবং তৎপরবর্তী প্রজন্ম অমুসলিমদের বিভিন্ন বইপুস্তক এবং সাহিত্য থেকে ঐসকল জ্ঞান অর্জন করতেন। এজন্য তাদের দরকার পড়ত বিদেশি ভাষা শিক্ষার।

রাসূল ﷺ বিদেশি ভাষা শিখতে সাহাবীদের উৎসাহ প্রদান করতেন। তিনি যায়দ ইবনে সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সুরয়ানি ভাষা (Syriac Language) শেখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি তা শেখার পরে ফরাসি ও রোমান ভাষাও শিক্ষা করেন।

ভাষা শিক্ষার এই ধারা পরবর্তীতে মুসলিমদের মাঝে অনেক কাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সাহাবীগণের পরেও মুসলিম খলীফাগণ ভাষা শিক্ষা এবং অনুবাদের কাজে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতেন। তারা লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করতেন এবং অনুবাদকদের ভাতা দিতেন।

শুধু তাই নয়, মুসলিম খলীফাগণ যখন কোন অমুসলিম রাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করতেন তখন তাঁরা চুক্তিতে একটি ধারা রাখতেন এই বলে যে, মুসলিমরা গির্জা ও বায়জেন্টাইনীয় প্রাসাদসমূহে যেসকল গ্রন্থাগার রয়েছে সেগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সংরক্ষিত কিতাবসমূহের অনুবাদ করতে পারবেন। অনেক সময় তাঁরা বইপত্রের মাধ্যমে বন্দি বিনিময় চুক্তিও করতেন।

এভাবে তাঁরা গ্রিক, রোমান, ভারতীয় ইত্যাদি সভ্যতার যেসকল জ্ঞান মানবসভ্যতার জন্য কল্যানকর সেসকল বই পুস্তক অনুবাদ করতেন। এতে মুসলিমদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার আঙ্গিনা সম্প্রসারিত হত। বিশেষ করে তাঁরা ওষুধশাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র ও রসায়নশাস্ত্র-সংক্রান্ত জ্ঞানের প্রাচুর্যতা লাভ করেছিলেন।

তবে তাঁরা অনুবাদের ক্ষেত্রে মুসলিম মূল্যবোধ এবং নীতিনৈতিকতার বিষয়টি মাথায় রাখতেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে গিয়ে মুসলিমদের মূল্যবোধ আর নীতিগত পদস্খলন যাতে না হয় তাই তাঁরা গ্রিকদের নিয়মনীতি এবং আইনকানুনবিষয়ক কোন কিছু অনুবাদ করতেন না। যেমন তাঁরা গ্রিক মহাকাব্য ইলিয়ডের অনুবাদ করেননি তেমনি পৌত্তলিক গ্রিক সাহত্যিও অনুবাদ করেননি।

উপরের তথ্যগুলো ‘মুসলিমজাতি বিশ্বকে কী দিয়েছে’ – ড. রাগীব সারজানির বই থেকে সংগৃহীত।