অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাবিল আর নাঈমের মাঝে অনেক গল্প হয়। আজকে তারা দু’জন খুব প্রয়োজনীয় একটি বিষয়ে আলোচনা করছে।

তারা দুজনই অফিস শেষে প্রতিদিন আরবি শেখার পেছনে কিছুটা সময় দেয়। নাবিল তার স্ত্রীকেও আরবি শেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

কথা প্রসঙ্গে নাবিল নাঈমকে জিজ্ঞেস করল যে, সে তার স্ত্রীকে আরবি শেখাচ্ছে কিনা।

সে বলে উঠল, মেয়েদের আরবি শিখে কী হবে?

নাবিল বেশ অবাক হল নাঈমের কথায়।

নাবিল বলল, আপনি নিশ্চয় চান আপনার সন্তানেরা ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। এজন্য ছোটতেই আপনি তাদের ইসলামি জ্ঞান শিক্ষা দিবেন। অল্প কিছুদিন পরেই আপনার সন্তানদেরকে আরবী ওয়ার্ড শেখাতে হবে। আপনার সন্তানকে দেখিয়ে দিতে হবে—ঐ যে দরজাটা দেখছো ঐটা আরবিতে بَابٌ, ঐ জানালাটা نَافِذَةٌ, রান্নাঘরটা مَطْبَخٌ এভাবে আপনার সন্তানকে আরবি শেখাতে হবে ছোটতেই। আপনি সারাদিন কাজে কর্মে ব্যস্ত থাকবেন। এখন বলুন, আপনার স্ত্রীই যদি আরবী না জানে তাহলে সে কীভাবে সন্তানদের আরবী শেখাবেন?

তাছাড়া আপনি নিশ্চয় জানেন আমরা যে সকল ইমাম এবং আলিমগণ পেয়েছি তাদের প্রত্যেকের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে একজন মা কাজ করেছেন। আপনি কি মনে করেন ঐসকল মায়েরা ইসলামি জ্ঞানে জ্ঞানান্বিত না হলে তাদের সন্তানেরা এতবড় হতে পারত? কয়েকজন সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং তাদেরকে সত্যিকারের মুসলিম করার পেছনে একজন মা ই যথেষ্ট। সুতরাং মেয়েদের আরবি শেখাসহ ইসলামি জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন নেই—এই ভাবনাটা ভুল।

নাবিলের একটানা আলোচনায় নাঈম তার ভুলটা ধরতে পারল। সে বুঝতে পারল যে, সে একটা মস্তবড় ভুল কথা বলেছে। একজন মুসলিমের সত্যিই নিজের পাশাপাশি পরিবারের বিশেষ করে নারীদের ইসলামি জ্ঞানের ব্যবস্থা করা উচিত। কারণ একজন পুরুষ আয় রোজগারে ব্যস্ত থাকে কিন্তু সন্তানদের বড় করে নারীরাই।

ভাই ও বোনেরা,
এটি নিছক কোন গল্প নয়। আমাদের সমাজে নারীদের ইসলামি শিক্ষা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিটাই এমন। এজন্য আমাদের মধ্যে যেসব ভাইদের সুযোগ আছে তারা যেন নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগি হই। পাশাপাশি যে সকল বোনেদের এখনও সুযোগ আছে তারাও ইসলামি জ্ঞান অর্জনটা নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিই।